একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মায়ের কান্না থামছে না। চকরিয়ায় ডাকাতের হামলায় নিহত লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ারের মা নাজমা বেগম। মঙ্গলবার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করের বেতকা গ্রামে
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ডাকাতের ছুরিকাঘাতে নিহত লেফটেন্যান্ট মো. তানজিম সারোয়ার নির্জনকে (২৩) টাঙ্গাইলে দাফন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জানাজা শেষে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করের বেতকা গ্রামের কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। তরুণ এই সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার করের বেতকা গ্রামের সারোয়ার জাহান ওরফে দেলোয়ারের সন্তান। তিনি পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন এবং ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে আর্মি সার্ভিস কোর (এএসসি) থেকে কমিশন লাভ করেন। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতের হামলায় তিনি নিহত হন।
বিকেলে তানজিমের বাড়িতে শোকের দৃশ্য ছিল মর্মস্পর্শী। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা সারোয়ার জাহান শোকে স্তব্ধ, আর মা নাজমা বেগম ছেলের মৃত্যু শোনার পর থেকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। বাবা সারোয়ার জাহান অশ্রুসিক্ত চোখে বলছিলেন, ‘এমন মৃত্যু যেন আর কারও না হয়। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই। তানজিমই ছিল আমার একমাত্র সন্তান।’
তানজিমের মৃত্যুতে গ্রামবাসী ও আত্মীয়স্বজন ভোর থেকেই তার বাড়িতে ভিড় জমায়। বেলা সাড়ে তিনটায় হেলিকপ্টারে করে তাঁর মরদেহ টাঙ্গাইল শহরের হেলিপ্যাডে আনা হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে করের বেতকা গ্রামের নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তানজিমের মামাতো ভাই মীর পলাশ জানান, ছোটবেলা থেকেই তানজিমের ইচ্ছা ছিল সেনা কর্মকর্তা হওয়ার। তাঁর সেই স্বপ্ন পূর্ণ হলেও ডাকাতের হামলায় সব কিছু শেষ হয়ে গেল।
বিকেলে বোয়ালী মাদ্রাসা মাঠে তানজিমের জানাজায় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং এলাকার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে করের বেতকা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।


0 Comments